ঘূর্ণিঝড় সিডর

ঘূর্ণিঝড় সিডর (অতি মারাত্নক ঘূর্ণিঝড় সিড্‌র, ইংরেজিতে Very Severe Cyclonic Storm Sidr)।ঘূর্ণিঝড় সিডর ২০০৭ সালে বঙ্গোপসাগরে এলাকায় সৃষ্ট একটি ঘূর্ণিঝড়। ২০০৭ সালে উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে এটি ৪র্থ নামকৃত ঘূর্ণিঝড়। এটির আরেকটি নাম ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ০৬বি (Tropical Cyclone 06B)। শ্রীলংকান শব্দ ‘সিডর’ বা ‘চোখ’-এর নামের এর নাম করণ করা হয়েছে।

১৫ নভেম্বর সকাল বেলা পর্যন্ত বাতাসের বেগ ছিল ঘন্টায় ২৫০ কিমি/ঘন্টা এবং ৩০৫ কিমি/ঘন্টা বেগে দমকা হাওয়া বইছিলো। একারনে সাফির-সিম্পসন স্কেল অনুযায়ী একে ক্যাটেগরি-৪ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় আখ্যা দেয়া হয়।

[ঝড়ের ক্যাটাগরি ভাগ করার সবচেয়ে জনপ্রিয় নিয়মের নাম হচ্ছে ১৯৬৯ সালে আবিষকৃত ‘সাফির-সিম্পসন হ্যারিকেন স্কেল’। এই নিয়মে বাতাসের গতিবেগ হিসাবে এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত মোট পাঁচটা ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয় ঝড়গুলোকে।

ক্যাটাগরি এক – প্রতি ঘন্টায় ১১৯ থেকে ১৫৩ কিলোমিটার
ক্যাটাগরি দুই – প্রতি ঘন্টায় ১৫৪ থেকে ১৭৭ কিলোমিটার
ক্যাটাগরি তিন – প্রতি ঘন্টায় ১৭৮ থেকে ২১০ কিলোমিটার
ক্যাটাগরি চার – প্রতি ঘন্টায় ২১১ থেকে ২৫০ কিলোমিটার
ক্যাটাগরি পাঁচ – প্রতি ঘন্টায় ২৫০ কিলোমিটার বা তার থেকে বেশি ]

আবার বাতাসের গতি যখন প্রতি ঘন্টায় ৭৪ মাইলের বেশি হয়ে যায়, তখনই তাকে হ্যারিকেন বলা হয়। সিডর ছিল একটি হ্যারিকেন।

এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৩,০০০ এরও বেশি মানুষের প্রাণহানী হয়েছে।

(বিস্তারিত জানতে নিচের লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন।)

আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে ২০০৭ সালের ৯ নভেম্বর একটি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়। ১১ নভেম্বর আবহাওয়ায় সামান্য দুর্যোগ এর আভাষ পাওয়া যায়, এবং এর পরেরদিনই এটি ঘূর্ণিঝড় সিডর-এ পরিনত হয়। বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে এটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে এবং বাংলাদেশে একটি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।

ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রীয় অংশ নভেম্বর ১৫ তারিখ সন্ধ্যা ৬টার পর বাংলাদেশের পাথরঘাটায় বালেশ্বর নদীর কাছে উপকূল অতিক্রম করে। ঝড়ের তান্ডবে উপকূলীয় জেলা সমূহে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ঝড়ো হাওয়া বইছে সাথে বিপুল পরিমানে বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে রাজধানী ঢাকাসহ সাড়া বাংলাদেশের দেশের বিদ্যুত ব্যবস্থায় বিপর্যয় দেখা দেয়। বিদ্যুত বিপর্যয়ের ফলে ঢাকা সহ সাড়া দেশেই দেখা দিয়েছিল পানি সমস্যা। কৃষি মন্ত্রনালয়ের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশের প্রায় ৬০০,০০০টন ধান নষ্ট হয়েছে যার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারনা করা হয়েছে। সুন্দর বনের পশুর নদীতে বেশ কিছু হরিণের মৃত্য দেহ ভাসতে দেখা গেছে এবং বিপুল সংখ্যক প্রাণীর মৃত্যুর আশংকা করা হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে প্রায় ৯৬৮,০০০ ঘরবাড়ী ধ্বংস এবং ২১০,০০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এ ঝড়ে প্রায় ২৪২,০০০ গৃহপালিত পশু এবং হাঁসমুরগী মারা গেছে।

বাংলাদেশে ঘুর্নিঝড় সিডরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় ১২টি জেলার চার লক্ষ একর কৃষিজমিতে আবাদের কাজ নিয়ে বিপদে পড়েছেন কৃষকরা৻

বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলার সাউথখালি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা।

দূর্গত মানুষ চেষ্টা করছেন ভাঙ্গা ঘরদোর মেরামত করে স্বাভাবিক ঘরকন্নার কাজ শুরু করতে৻ কিন্তু তাদের ছোট ছোট উদ্যোগের পুঁজি এরই মধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে৻ নতুন ঋন পাওয়ার সম্ভাবনাও অনিশ্চিত৻ স্থানীয় এনজিও অফিসগুলোতে তারা ভীড় করছেন পুরোনো ঋনের কিস্তির মেয়াদ বাড়ানো এবং নতুন ঋনের জন্য৻

বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও পূর্ণবাসনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন ধাপের কর্মসূচীর কথা ঘোষণা করেছে৻

সরকার ত্রাণ এবং পুনর্বাসন কর্মসূচীতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জরুরী ভিত্তিতে দূর্গত এলাকায় খাদ্য, পানি এবং ঔষধ সরবরাহের ওপর৻ পরবর্তী দুই ধাপে ক্ষতিগ্রস্থদের গৃহনির্মাণ অনুদান এবং শেষ ধাপে কৃষক এবং জেলেদের ঋণ দেয়া হবে৻

Advertisements

1 Comment

  1. I think all people should contribute to help the victims of cyclone.


Comments RSS TrackBack Identifier URI

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s