মহাকাশ গবেষনা :: SETI কিভাবে কাজ করে-ড. মশিউর রহমান।

এটি বেশ পুরানো একটি আরটিকেল যা আমি বিজ্ঞানী.কম ওয়েব সাঈট থেকে পেয়েছি। আপনাদের জন্য এটি পুনঃমুদ্রণ করলাম আমার ব্লগটিতে। এটি লিখেছেন ড। মশিউর রহ্মান।

আসল মুদ্রণটি আপনি নিম্নোক্ত লিঙ্ক থেকে পাবেন-
http://biggani.com/content/view/14/121/

_______________________________________________________________

আমরা কি এই মহাকাশে একলা? মানুষ ছাড়া এই মহাজগতে আর কি কোন গ্রহে কেউ নেই? এই প্রশ্ন এর মুখোমুখি আমরা সেই প্রাচীনকাল থেকে৷ এই যে এত বিশাল মহাকাশ, কোটি কোটি গ্রহ নত্র এর মধ্যে একটিতেও কি মানুষের মত কোন বুদ্ধিমান প্রাণী এর আবির্ভাব হয়নি? একলা মানুষ সুদূর আকাশের দিকে তাকিয়ে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে তার নিজের কাছে৷ মানুষের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যত এগিয়েছে মানুষ ততই এই প্রশ্নগুলি উত্তর খুঁজে পাবার চেষ্টা করেছে৷ আমরা কি এই মহাকাশে একলা? মানুষ ছাড়া এই মহাজগতে আর কি কোন গ্রহে কেউ নেই? এই প্রশ্ন এর মুখোমুখি আমরা সেই প্রাচীনকাল থেকে৷ এই যে এত বিশাল মহাকাশ, কোটি কোটি গ্রহ নত্র এর মধ্যে একটিতেও কি মানুষের মত কোন বুদ্ধিমান প্রাণী এর আবির্ভাব হয়নি? একলা মানুষ সুদূর আকাশের দিকে তাকিয়ে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে তার নিজের কাছে৷ মানুষের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যত এগিয়েছে মানুষ ততই এই প্রশ্নগুলি উত্তর খুঁজে পাবার চেষ্টা করেছে৷
আমাদের বর্তমান টেকনলজি দিয়ে মানুষ এর পক্ষে একটা দূরত্বের পরে আর অতিক্রম করা সম্ভব নয়৷ এর মধ্যে সবথেকে আলোচিত মাধ্যম হল রেডিও তরঙ্গ৷ যদি অন্য কোন গ্রহ থেকে কেউ মানুষ এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তবে রেডিও তরঙ্গ এর মাধ্যমেই সম্ভব৷ আর যদি তা হয়ে থাকেই, তবে মহাকাশ থেকে যে রেডিও তরঙ্গ আসছে তা পর্যবেন করে দেখা উচিত৷ এই উদ্দেশ্য কে সামনে রেখে Search for Extraterrestrial Intelligence সংক্ষেপে শুরু হয়৷ প্রথম SETI নিয়ে আলোচনা শুরু হয় ১৯৫৯ সনে৷ Drs. Philip Morrison এবং Guiseppe Coconni সেই সময় Nature পত্রিকাতে প্রথম Searching for Interstellar Communication নামে একটি প্রবন্ধ লিখেন৷ সেটিই এই SET এর সূত্রপাত ঘটায়৷
Contact সিনেমাতে এইরকমই Ellie Arroway ও তার সঙ্গী গবেষকরা আকাশের রেডিও তরঙ্গ বড় বড় টেলিস্কোপ দিয়ে পর্যবেন করে ও পরিশেষে তারা একটি গ্রহ থেকে তরঙ্গ পায় এবং তা দিয়ে তারা মহাকাশযান তৈরী করে৷ কিন্তু কল্পনার সেই জগত নয় বাস্তবেও ঠিক একই রকম কাজ হচ্ছে৷

মহাকাশ থেকে যে রেডিও তরঙ্গ আসছে তার প্রায় সবই Noise এ ভরা থাকে৷ উপরের চিত্রে এমনি একটি Arecibo রেডিও টেলিস্কোপ এর ছবি৷ মহাকাশ এর রেডিও তরঙ্গগুলি গুলিতে যে সব তথ্য থাকে তা নিচের চিত্রে দেখান হয়েছে৷ মহাকাশের অন্য কোন গ্রহ থেকে বুদ্ধিমান কেউ যদি রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে কোন তথ্য পাঠায় তবে তা এই তরঙ্গগুলির মধ্যে কোথায় না কোথাও খুঁজলে পাওয়া যাবে৷ এছাড়া যদি কোন সিগনাল কোন গ্রহ থেকে পাঠানও হয় তবে কত চ্যানেলে পাঠাচ্ছে তা জানাও একটি বড় সমস্যা৷ কেননা অসংখ্য চ্যানেল দিয়ে তা পাঠান সম্ভব৷ ব্যাপারটা অনেকটা আমাদের সাধারণ রেডিও এর চ্যানেল এর সাথে মিল আছে৷ কোন রেডিও স্টেশন ধরবার জন্য রেডিওর নব ঘুরিয়ে আমরা চ্যানেল পরিবর্তন করতে থাকি৷ কিন্তু মহাকাশের রেডিও তরঙ্গকে পর্যবেন করবার জন্য অনেক বড় রেডিও টেলিস্কোপ দরকার এবং সেগুলি পর্যবেন করবার জন্য অনেক সুপার কম্পিউটার দিয়ে যাচাই করা দরকার৷ কিন্তু একক কোন প্রতিষ্টান বা গবেষনা কেন্দ্রের পক্ষে এই বিশাল ক্যালকুলেশন করা কঠিন৷

১৯৯৯ সনে বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ে Dan
werthimer‍ ও David P. Anderson দুজন বিজ্ঞানী SERENDIP প্রজেক্ট এ কাজ করছিলেন৷ তারা দেখেন যে Arecibo এন্টিনা থেকে যে তথ্য প্রজেক্ট এ ব্যাবহৃত হয় তার একটা বৃহত্‍ অংশই পর্যবেণ করে দেখা হয়না৷ তা দেখবার জন্য বিশাল বিশাল সুপার কম্পিউটারের প্রয়োজন৷ কিন্ত যদি সেই তথ্যগুলিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করে নেয়া হয় তবে সাধারণ কম্পিউটার এর মাধ্যমে ক্যালকুলেশন করে পর্যবেন করে দেখা সম্ভব৷ সাধারণ কম্পিউটার ব্যাবহারকারীরা যখন তাদের কম্পিউটার ব্যাবহার করে না তখন এই ক্যালকুলেশনের জন্য কম্পিউটারটি ব্যবহার করা যায়৷ তারা Seti@home নামের একটি স্ক্রিণসেভার (Screensaver) তৈরী করেন৷ স্ক্রিণসেভার হল একটি সাধারণ প্রোগ্রাম যখন কম্পিউটার দীর্ঘণ ব্যবহার করেন না তখন তা চালু হয় ও স্ক্রীনে বিভিন্ন ছবি দেখা যায়৷ এই স্ক্রিণসেভারটি বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের Seti হোমপেজ থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন৷
http://setiathome.ssl.berkeley.edu

SETI@home কিভাবে কাজ করে:
Seti এর ক্ষেত্রে বড় বড় রেডিও টেলিস্কোপ দিয়ে মহাকাশের রেডিও তরঙ্গগুলিকে Seti এর কম্পিউটারে রেকর্ড করে রাখা হয়৷ সেই তথ্যগুলিকে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইউনিটে ভাগ করে রাখ হয়৷ যখন কেউ এই Seti প্রোগ্রাম তার কম্পিউটারে ইন্সটল করে, তখন তার কম্পিউটার না ব্যবহার করবার সময় স্ক্রিণসেভারটি অটোমেটিক চালু হয় এবং তা Seti এর কম্পিউটার থেকে একটি করে কাজের ইউনিট ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডাউনলোড করে নিয়ে আসে৷ Seti এর কম্পিউটার প্রোগ্রামটি সেই তরঙ্গের ভিতর কোন গুরুত্বপূর্ণ ডাটা আছে কিনা তা যাচাই করে৷ একটি ইউনিট এর কাজ শেষ করতে প্রায় ১২ ঘন্টা লাগে৷ অবশ্য তা কম্পিউটারের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে৷ একটি ইউনিট এর কাজ যাচাই করে শেষ করার পর, সেই ফলাফল Seti এর মূল কেন্দ্রে আবার ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়৷ এইভাবে সারা পৃথিবীতে অসংখ্য প্রোগ্রাম সব সময তথ্য বিশ্লেষন করে দেখছে৷ যদিও এইসব বড় বড় ক্যালকুলেশন এর কাজ করবার জন্য সাধারণ কম্পিউটারের পরিবর্তে সুপার কম্পিউটার ব্যবহৃত হয় কিন্তু কাজগুলিকে ছোট ছোট ইউনিটে ভাগ করে নেবার কারণে সাধারন কম্পিউটার দিয়েও মহাকাশ থেকে আসা তথ্য বিশ্লেষন করা সম্ভব৷ যেখানে সুপার কম্পিউটার দিয়ে করার ফলে অনেক খরচ হয় সেখানে এই পদ্ধতিতে প্রায় বিনা মূল্যে করা সম্ভব৷ ঝবঃর এর বর্তমান ব্যাবহারকারীর সংখ্যা এর ৪৫,৭৬,১১৫ (এই প্রবন্ধটি লিখবার সময়)৷ ৪৫ কোটি লোকজন তাদের কম্পিউটার যখন ব্যবহার করে না তখন এইভাবে বিজ্ঞানের জন্য তারা তাদের কম্পিউটারটি ব্যবহার করে৷ আর এখন পর্যন্ত সবাই মিলে যে ১৫৩১০৯৫.৭৮৬ বছরের সমান কম্পিউটার ব্যবহার করেছে৷ এর মধ্যে বাংলাদেশের মোট ৩১৯ জন এই ঝবঃর প্রোজেক্টে অংশ নিয়েছে৷ তবে ঝবঃর এর কাজ সফল করবার জন্য আরো সচেতনতার প্রয়োজন৷ আপনি খুব সহজে প্রগ্রামটি ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিয়ে অন্যান্য বিজ্ঞানীদের সাথে এই প্রজেক্টে অংশ নিতে পারেন৷
Seti@home এর ১০০,০০০; ৭৫,০০০; ৫০,০০০; ২৫,০০০; ১০,০০০; ৭,৫০০; ৫,০০০; ২,৫০০; ১,০০০; ৭৫০; ৫০০; ২৫০ ও ১০০ টি ইউনিট কাজ শেষ করলে Seti@home থেকে একটি সার্টিফিকেট দেয়৷ যেটি আপনার একটি ব্যক্তিগত ক্রেডিট হিসাবে বিবেচিত হবে৷
বর্তমানে প্রতিবছরই কম্পিউটারের দাম কমছে৷ আমরা খুব অল্প সময়ের জন্য আমাদের কম্পিউটার ব্যবহার করি, কিন্তু যখন কম্পিউটারটি ব্যবহার করিনা, তখন এই প্রজেক্ট এ অংশ নিয়ে আমাদের কম্পিউটারের একটি সুন্দর ব্যবহার করতে পারি৷ ফলে যখন কম্পিউটারের দাম কমে যাবে তখন অন্তত এই বলে সান্তনা পেতে পারি যে আমাদের কম্পিউটারটি বিজ্ঞান এর জন্য কিছু কাজ করছে৷
অবশ্য এর বিপরীতে অনেকই এই Seti কে অর্থ ও সময়ের অপচয় বলে মনে করেন৷ কেননা আজ পর্যন্ত এই প্রজেক্টের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট কোন আশার আলো দেখা যায়নি৷ আজ পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে তাতে শুধু মাত্র কিছু Noise পাওয়া গেছে৷ অন্য কোন গ্রহের কোন পাঠান তথ্য পাওয়া যায়নি৷ কিন্তু আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি যে, যদিও তাতে কারো পাঠান কোন তথ্য নাও পাই তবুও এটা তো অন্তত আমরা সুষ্পষ্ট ভাবে বলতে পারবো যে সেখানে কারো পাঠান কোন তথ্য নেই৷ যদি তা না দেখতাম তবে তা অজানাই থেকে যেত৷ ব্যাপারটা অনেক অন্ধকার ঘরের মত৷ যদি আপনার পাশে কোন অন্ধকার ঘর থাকে আর যদি তা আলো জ্বেলে দেখেন যে, সেই ঘরে কিছুই নেই৷ তবে সেই আলো জ্বেলে দেখার হয়তো কোন মূল্য নেই৷ কিন্তু যদি সেই অন্ধকার ঘরটি না দেখতেন, তবে জানতে পারতেননা যে তাতে কি আছে৷ আলো জ্বেলে পরখ করে দেখলে, এইটুকু অন্তত সন্দেহাতিত ভাবে বলতে পারেন যে, ওই ঘরে কিছু নেই৷ Seti@home এর ব্যাপারটাও সেইরকম৷

Advertisements

Leave a comment

No comments yet.

Comments RSS TrackBack Identifier URI

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s