Our Chief Election Commissioner (CEC).

This post originally published in Xanthis WordPress Blog. I am just republishing it to my blog because I found it interesting. Read it.

________________________________________________________________

একটি গণতান্ত্রিক দেশে সরকারের যেকয়টি অংশ সরাসরি ভাবে গণতন্ত্র রক্ষার কাজে নিয়জিত থাকে, তার মাঝে প্রধান হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। দেশে একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের প্রধান দাবি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থ বর্তমান সরকার বারবার তাদের নির্বাচন করার সদিচ্ছাকে আকড়ে ধরতে চেয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা, অন্যান্য উপদেষ্টাসহ সেনাপ্রধান বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডিসেম্বারে সাধারণ নির্বাচন করার উপর জোর দিয়েছেন। ব্যপারটা অনেকটা এরকম ছিল, যেন এই সরকারের কর্তাব্যাক্তিরা জনগণকে বোঝাতে চেয়েছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে তো আমরা ব্যর্থই হলাম, তো আপনারা উত্তেজিত হবেননা, আমরা নির্বাচন করতে ইনশাল্লাহ ব্যার্থ হবনা। এই পয়েন্টে যে ভদ্রলোক বিশেষ ভাবে জোরালো ছিলেন, তিনি হলেন স্বয়ং প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা। গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে ভদ্রলোক তো রীতিমত অভিমানই করে বসলেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দল ওনার সাথে দেখা করে নির্বাচনের ব্যপারে আশাবাদ ব্যাক্ত করার পর তিনি অভিমান করে বললেন,

“বিদেশিদের তো নির্বাচন নিয়ে কোন অনিশ্চয়তা প্রকাশ করতে দেখা গেলনা, তারা তো নির্বাচনের ব্যপারে বেশ আশাবাদি। তো দেশে মানুষ নির্বাচন হবে কি হবে না সে বিষয়ে এত সন্দেহ করছেন কেন, তা তো বুঝতে পারছি না।“

প্রকৃতপক্ষে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাহেবের এই বুঝতে না পারার কারনেই আমার এই লেখার আবির্ভাব। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নামটি বেশ লম্বা। আর যেহেতু আমি ওনাকে সাহেব ছাড়া আর অন্যকিছু ডাকতে আগ্রহি নই, তাই আমি এই পুরো নামটার একটা সংক্ষেপ রূপ দিলাম। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাহেবের বদলে আমরা বরং ওনাকে প্রনিক সাহেব নামেই ডাকি।

আগামি ডিসেম্বার মাসে নির্বাচন হবে, এই ইস্যুতে ক্যাম্পেইনিং-এর সবচেয়ে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন ও রাখছেন প্রনিক সাহেব। মূলত ভোটার লিস্টের কাজ কদ্দূর কি এগিয়েছে, তা কদ্দূর উৎসাহব্যঞ্জক, নাকি প্রচন্ড হতাশাব্যাঞ্জক সে ব্যাপারে আমি খুব ওয়াকিবহাল নই। তাই অ্যামেরিকার তাগাদায় (নির্দেশে) বায়োমেট্রিক লিস্ট, যাকে ভোটার লিস্টএর নামে চালানো হয়ে আসছে, সেই লিস্ট তৈরির কাজ শেষ না হওয়ার কারনে নির্বাচন হবেনা এই ব্যাপারে আমি খুব নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছিনা। সেদিন দৈনিক নয়াদিগন্তের জনাব ফরহাদ মাজহারের একটি উপসম্পাদকীয় পড়ে জানা গেল, ভোটার লিস্ট তৈরির কাজ বর্তমানে যে গতিতে চলছে, তাতে ডিসেম্বারে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান স্বপ্ন হিসেবে দেখা যেতে পারে, তবে বাস্তবে তা হওয়ার সম্ভাবনা কম, হলেও তা কোনভাবেই সুষ্ঠু হিসেবে গণ্য করা যাবে না। আমি আশা করি দৈনিক নয়াদিগন্তের উপসম্পাদক আকাশ বাতাস থেকে তথ্য নিয়ে এই লেখাটি লিখেননি। এবং এই তথ্যটি যদি ঠিক হয়ে থাকে, তবে প্রনিক সাহেবের বক্তব্য গুলোকে খুব বাস্তবসম্মত হিসেবে ভাবা যাচ্ছে না। সবচেয়ে বড়কথা, তিনি নিজে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে যেভাবে বিতর্ক সৃস্টি করছেন, তাতে তিনি যে নিরপেক্ষ নন, সেটা বোঝার জন্য খুব বিচক্ষন হওয়ার প্রয়োজন পড়েনা। বিএনপির সংবিধান ঠিক আছে কি নেই, সেটা যাচাই করার মাপকাঠি তিনি কোথায় পেলেন আমি জানিনা, তবে এতটুকু বলা যেতে পারে, “বিএনপির তো সংবিধানই ঠিক নেই”, এরকম অবিবেচনাপ্রসূত স্ট্রেইট ফরওয়ার্ড কথা আমি বিএনপির আর্ক রাইভাল আওয়ামি লীগের কোন নেতাকেও কখনও বলতে শুনিনি। পিস টিভিতে ড. জাকির নায়েককে বলতে শুনলাম, যাবতিয় বাজে কথার উৎপত্তি হল পাপ ঢাকার প্রয়াস থেকে। প্রনিক সাহেব মেজর হাফিজকে ‘গঠনমূলক’ আলোচনার দাওয়াতের কার্ড পাঠিয়ে যে অপকর্মটা করেছেন, সেটাকে ক্ল্যারিফাই মোটকথা হালাল করার প্রয়াসবশতই এই জাতিয় বক্তব্য গুলো আসছে, সেতা মোটামুটি নিশ্চিত। শুধু তাই নয়, প্রনিক সাহেব এর ফলোআপ হিসেবে বলেছেন,

“জনাব মান্নান ভূঁইয়ার বহিস্কারাদেশটা অবৈধ ছিল, এটা শুধু আমিই মনে করি না, কমিশনের সবাই মনে করেন। এসব বিবেচনা করেই হাফিজুদ্দিন আহমেদকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আরে বিএনপির তো সংবিধানই ঠিক নাই। যাইহোক, এসব রাজনীতির কথা, এখানে এগুলো বলে লাভ নাই। কেচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসবে।“

একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ সংস্থার প্রধানের পদে থেকে প্রনিক সাহেব কিভাবে এরকম বক্তব্য দিতে পারেন এবং দিয়ে টিকে থাকেন, সেটা এক মস্তবড় আশ্চর্য ব্যপার। এই প্রনিক সাহেবের নিয়ন্ত্রনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন কিভাবে সম্ভব? দেশের মানুষকে যে প্রতিনিয়ত আশা দেখিয়ে নেয়া হচ্ছে, সেই আশা পূরণের নমুনা কি এই? রাশেদ খান মেননের মতে নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হূসেনের বক্তব্য শুনের মনে হয়েছে জামায়াত ইসলামের একজন মুখপাত্র কথা বলছেন। আর গয়েশ্বর রায়ের মতে, এরকম বিতর্কিত বক্তব্য দেয়ার পর প্রনিক সাহেবের নিজে থেকেই পদত্যাগ করা উচিত। আমি আমার এই লেখাটা শুরু করেছিলাম এই বলে, একটি গণতান্ত্রিক দেশে সরকারের যেকয়টি অংশ সরাসরি ভাবে গণতন্ত্র রক্ষার কাজে নিয়জিত থাকে, তার মাঝে প্রধান হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই কমিশনের প্রধান যদি প্রকাশ্যে একটি রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে অবস্থান নেন, তবে দেশের মানুষকে বিশ্বাস হারালে তাদের কি দোষ দেয়া যায়?

২০০৮ সালের ডিসেম্বার মাসে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়, এটা ভেবে নেয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

ফলোআপ

অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ স ম হান্নান শাহ এবং গয়েশ্বর রায় পৃথক পৃথক ভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড এ টি এম শামসুল হুদার পদত্যাগ দাবি দাবি করেছেন।