Writing With a Broken Heart : This Time The ‘Politics’

The Article Originally Pulished on http://comilla.wordpress.com/
I am republishing it here without any editing.
___________________________________________________________________

একজন বাংলাদেশী, যে তার দেশকে ভালোবাসে, যে তার দেশের সেনানীদের বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠজ্ঞান করে, যে দেশকে আক্রান্ত হতে দেখলে নিজেদের ভেতর মতাদর্শের বিভাজনকে গৌণ মনে করে, দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে দেখবার জন্য ছটফট করে, তার মন ভেঙ্গে দেয়ার জন্যে পিলখানার ঘটনাটি যথেষ্ট ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে দেশের সেনাবাহিনীর উপর এত বড় আঘাত আর হয়নি। ঘটনাটি যেদিন ঘটে সেদিন কেউই বুঝে উঠতে পারেননি যে আসলে কি হয়েছে কিংবা এই অবস্থায় কি মনোভাব প্রদর্শন করা প্রয়োজন। যখন পিলখানার ভেতরে ও আশেপাশে পাওয়া যেতে থাকল দেশের গর্বের সন্তানদের ক্ষতবিক্ষত দেহ, তখন আর কারওরই বুঝতে বাকি থাকেনি যে এ কোন বিদ্রোহ, অসন্তোষ ও ক্ষোভের ফল হতে পারেনা। এ দেশের নিরাপত্তা বুহ্যের উপর এক আচমকা ও নৃশংস আঘাত, যা বাংলাদেশের শত্রুরা ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষতি হলে যাদের লাভ হয়, বাংলাদেশ এগিয়ে গেলে যাদের ক্ষতি হয়, তারাই এই কান্ড ঘটিয়েছে। এই ঘটনার ধারক বাহক যারা, তারা এই দেশের কেউ হতে পারে না, খোঁজ নিলে জানা যাবে কাগজে কলমে তারা হয়তো এদেশেরই মানুষ, কিংবা নয়, কিন্ত তারা বাংলাদেশের ঘৃণ্যতম শত্রু। এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ঘটনাগুলো পিলখানার ভেতর ঘটলেও ধারণা করা কঠিন নয় যে পরিকল্পনা ছিল দেশের আরও ক্ষতি করার। দেশের সেনাবাহিনীতে চূড়ান্ত ক্ষোভের সঞ্চার করে সেখান থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে পারে এমনটা আশা করা স্বাভাবিক, এমনটা ঘটতেই পারত। সেক্ষেত্রে দেশকে ইতমধ্যেই যে পরিমাণ দূর্বল করা হয়েছে, দেশ তার থেকে আরও অনেক বেশি দূর্বল হয়ে পড়ত। পরম করুণাময়ের কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যে তা অবশেষে ঘটেনি। আবেগ ও ক্ষোভের বশে তাৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া প্রদর্শনের চেয়ে ধৈর্য্য ও দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দেয়াকেই আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সঠিক মনে করেছে। এতে সেনাবাহিনীর প্রতি দেশের মানুষের শ্রদ্ধা বেড়েছে, সেনাবাহিনীর অধিনায়কদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থা বেড়েছে। আমরা আশা করি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে ধাপে ধাপে এগিয়ে আমাদের সেনাবাহিনী দেশের উপর এই নৃশংস আক্রমনের নেপথ্য খুঁজে বের করবেন, এই ঘটনার দায়ীদের বিচারের সামনে উপস্থিত করবেন ও দেশের শত্রুদের নিধন করবেন।

আমাদের দেশে রাজনীতির সাথে জড়িত ব্যাক্তিবর্গ দেশের স্বার্থকে পাশ কাটিয়ে যখন একান্তই নিজ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তখন তাকে আমরা বলি রাজনীতির নোংরা খেলা, কিংবা ডার্টি গেম। পিলখানায় সার সার পড়ে থাকা অফিসারদের মৃতদেহ গুলো দেখে মনে ভেঙ্গে গিয়েছিল। কিন্তু তারপরও সংশ্লিষ্ট সবার বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর অশ্রুসজল অথচ ধীরস্থির অবস্থান দেখে একটু একটু করে মনোবল ফিরে পাচ্ছিলাম। এই বোধটা জাগ্রত হতে শুরু করেছিল যে ঠিক সময় আমরা ঠিকই একতা ও মনোবল ফিরে পাই। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় বাধ সাধছে দেশের রাজনীতি। আজ সংসদ অধিবেশনে জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যদানের ধরণ দেখে নিরাশ না হয়ে উপায় ছিলনা। আমি পুরো অধিবেশনটির সম্প্রচার দেখিনি। কিন্তু একদেড় ঘন্টা যাই দেখেছি, তাতে পারষ্পরিক দোষারোপ ছাড়া কিছুই ছিলনা। বিশেষ করে এই ক্রন্দনরত হৃদয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী আঘাতটা বোধ হয় করলেন আমাদের স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। শুনেছি ওয়াশিংটন পোস্ট, টেলিগ্রাফ, গার্ডিয়ান নাকি গত কয়েকদিনের ঘটনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে। পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করি ঐ পত্রিকার সংবাদদাতারা যেন সংসদে প্রধানমন্ত্রীর আজকের ভাষণটির ব্যাপারে জানতে না পারেন। কারণ আজকের ভাষণ খুবই নগ্ন সাক্ষ্য বহন করে যে আমাদের রাজনীতি তার গতানুগতিক আচরণ থেকে বেরুতে পারে নাই, পারে তো নাইই বরং এই সংকটের সময়ও তার কুৎসিত দিক বেরিয়ে এল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে আমরা জানতে পারলাম বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নাকি পরোক্ষ ভাবে ঐ অফিসারদের হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলেন। সাংগঠনিক ভাবে বিরোধী দল অর্থাৎ বিএনপি নাকি এই নির্মম হত্যাকান্ডে মদদ জুগিয়েচছে। শুধু তাই নয়, হত্যাকারীদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে এই বিএনপিই। গোয়েন্দা মারফত প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত হয়েছেন যে ঘটনার আগের দুরাত বেগম জিয়া তাঁর বাসায় ছিলেননা, এবং আমাদের মাননীন প্রধানমন্ত্রী সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে সেই দুরাত বেগম জিয়া অফিসারদের হত্যা করার ষড়যন্ত্রে ব্যায় করে থাকতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী সংসদের কোন প্রমাণ প্রদর্শন না করলেও বলেছেন বিরোধী দলের এগুলো অস্বীকার করার কোন উপায় নাই। এই প্রত্যেকটি কথা প্রধানমন্ত্রী আজ সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সময়ে দ্ব্যার্থ কন্ঠে বলে গেলেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচনে সবচেয়ে বড় বিজয় নিয়ে ক্ষমতায় আরোহণ করেছেন, এই পরিস্থিতে সংসদের দাঁড়িয়ে তাঁর এই বক্তব্যদানের কি উদ্দেশ্য থাকতে পারে? উদ্দেশ্য আপাতদৃষ্টিতে একটাই হতে পারে যে এধরণের সরাসরি অভিযোগের একটি কড়া জবাব দেয়ার জন্য বিএনপি ছটফট করতে থাকবে। বিএনপির এর জবাবে হয়তো এরকমই সারশূণ্য একটি বক্তব্য দিবে, কে জানে বিএনপির বক্তব্য এর চেয়েও সারশূণ্য হতে পারে। তার জবাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ আরেকটি কড়া জবাব দিবে। এই নিয়ে পরষ্পরকে দোষারোপের প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। আর এর মাঝে বিভ্রান্ত হবে দেশের সব মানুষ। শুনেছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে নাকি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যত বড় রাজনীতিকই হোননা কেন, তিনি দেশের ক্যাবিনেটের মেম্বার। সেই ক্যাবিনেটের নেতা হলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। তদন্তর কোন কুলকিনারা কেউ জেনে উঠবার আগেই প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে যদি এসব কথা শুনতে হয়, তবে সেই প্রধানমন্ত্রীর অধস্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে সম্পাদিত তদন্তের ফলাফল কি হবে, তা কি আমরা আগে থেকে ধারণা করতে পারিনা?

দেশের উপর এত বড় একটা আঘাত এল। তাতেও যদি আমরা শিক্ষিত না হই, তাতেও যদি আমরা গতানুগতিকের একটুও বাইরে কিছু করতে বা ভাবতে না পারি, তবে কি সামনে এগুনো সম্ভব? ২০০৭ সালের শুরু থেকে যখন ঢালাও ভাবে দেশের রাজনীতিকদের উপর আক্রমণ আসছিল, তখন রাজনীতির পক্ষে কথা বলে বলে আমরা মুখের ফেনা তুলেছি। তখন রাজনীতিকে কেউ গালমন্দ করলে সেই গালমন্দ নিজের গায়ে নিয়েছি এবং তার উপযুক্ত জবাব দিতে চেয়েছি। দুবছর পর আজ দেশের উপর এত বড় আঘাত হানা হল। এই সংকটের মুহুর্তে যদি দেখি ঐক্যের পথে, এগুনোর পথে বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে সেই রাজনীতি, তবে এর উপর মানুষের শ্রদ্ধা থাকা কি সম্ভব? এর উপর মানুষ কেন আস্থা রাখবে? যখন কেউ বলেছে রাজনীতিবিদরাই দেশের এই হাল করেছেন, তখন তার জবাব দিয়েছি এই বলে যে দেশের প্রতিটি মানুষই রাজনীতিবিদ, রাজনীতিকে গালি দিলে নিজেকেও গালি দেয়া হয়। তো আমরা এ কোন রাজনীতির পক্ষে কথা বলেছিলাম? এতকিছুর পরও মানসিকতার বদল হয় না কেন? দায়িত্মবান পদের থেকে দায়িত্মহীন বক্তব্য দানের অবসান কবে হবে?

Poll: Whom will you vote in next National Election of Bangladesh???

Which Party you are going to vote this 18th December, 2008 Bangladesh National Election?
Is it Awami League Or BNP? Is it any other party other than these two major parties? Give your answer. This just a poll. Please take part in it.